বিএমআইয়ের পূর্বাভাস

সরবরাহ সংকট ও ক্রমবর্ধমান চাহিদায় বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমুখী থাকবে টিনের দাম

বিশ্ববাজারে টিনের দাম সামনের দিনগুলোয় ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রাখবে।

বিশ্ববাজারে টিনের দাম সামনের দিনগুলোয় ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রাখবে। এর পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখবে সরবরাহ সংকট এবং ইলেকট্রনিকস ও জ্বালানি খাতে ক্রমবর্ধমান চাহিদা। গবেষণা সংস্থা বিএমআই (ফিচ সলিউশনসের একটি ইউনিট) সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।

সংস্থাটি জানায়, বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে বিশ্বব্যাপী চাহিদা কিছুটা কমলেও সরবরাহ সংকটে বাজারে অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকবে। এমন প্রেক্ষাপটে চলতি বছর টিনের গড় মূল্য দাঁড়াতে পারে টনপ্রতি ৩২ হাজার ডলারে, যা আগের দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় অপরিবর্তিত।

মিয়ানমারে ভূমিকম্প ও কঙ্গোর টিন খনিতে সহিংসতার কারণে চলতি বছরের শুরুতে বেশ কয়েকটি খনি কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। মার্চে মিয়ানমারের ওয়াহ রাজ্যে খনি পুনরায় চালুর ঘোষণা এলেও ভূমিকম্পের কারণে আলোচনা স্থগিত হয়েছে। ওয়াহ রাজ্যের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খনি ও অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন লাইসেন্সের আবেদন করতে হবে।

এ বিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল টিন অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র বিশ্লেষক টম ল্যাংস্টন বলেন, ‘‌গত এক মাসে টিনের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল। মিয়ানমার ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ও যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা হ্রাসের ফলে ধাতুটির দামে অস্থিরতা কমেছে।’

তিনি আরো জানান, চীনের টিন প্রক্রিয়াজাত কোম্পানিগুলো কাঁচামালের স্বল্পতায় উৎপাদনে বিঘ্নের মুখে পড়েছে। অন্যদিকে গত বছর ইন্দোনেশিয়ার টিন রফতানি কমে গেলেও বর্তমানে তা পুনরুদ্ধার হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের ‘কমোডিটিস আউটলুক’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে টিনের গড় মূল্য আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ ও ২০২৬ সালে ২ শতাংশ বাড়বে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে টিনের দাম গত বছরের শেষ প্রান্তিকের তুলনায় ৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে এপ্রিলের শুরুর দিকে বাণিজ্য উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় দামে সাময়িক চাপের মুখে পড়ে ধাতবপণ্যটির বাজার।

ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারে উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে চলতি বছর বৈশ্বিক সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়বে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এ দুটি দেশ একসঙ্গে বিশ্বের মোট টিন সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি জোগান দেয়।

তবে নতুন খনি প্রকল্পের স্বল্পতার কারণে আগামী বছরগুলোয় বাজারে টিনের সরবরাহ সংকট থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। কারণ সেমিকন্ডাক্টর, সৌর প্যানেল ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে টিনের ব্যবহার আরো বাড়বে।

আরও